Thought · September 18, 2026

ফ্লপ থেকে টপ

A short sample thought.

English/বাংলা
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা হলিউডের কোটি ডলারের গ্রাফিক্স আমাদের চোখের সামনে নিখুঁত, একদম নিখুঁত সব দৃশ্য তুলে ধরছে। কিন্তু এই অতি-নিখুঁত দুনিয়ায় হঠাৎ যদি এক জঘন্য গ্রাফিক্স, বিদঘুটে চরিত্র আর ত্রুটিযুক্ত অ্যানিমেশনের সিনেমা এসে বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকার ঝড় তোলে, তবে একটু থমকে দাঁড়াতেই হয়।
 
হ্যাঁ, চীনের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সেনসেশন ত্রিমাত্রিক (3D) অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নিউ লাই’ (Niu Lai)। কোনো বড় স্টুডিও নয়, মাত্র এক-দেড় হাজার ডলার বাজেটে এক তরুণ পরিচালক এবং তাঁর মা মিলে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ঘরে বসে এই ৮৬ মিনিটের সিনেমাটি বানিয়েছেন। অ্যানিমেশন থেকে ডাবিং সব করেছেন এই দুজনে। মুক্তির প্রথম ১০ দিনে এটি ছিল এক চরম ফ্লপ, আয় ছিল মাত্র কয়েকশো ডলার। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবির অ্যানিমেশনের ভুলভাল বা গ্লিচ ক্লিপগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ এটিকে ‘২০২৬ সালের সবচেয়ে জঘন্য সিনেমা’ বলে ট্রোল করতে শুরু করে। আর এই ‘জঘন্য’ জিনিসটা স্রেফ সশরীরে দেখার জন্য, বন্ধুদের নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে বসে একটু হাসাহাসি করার জন্য তরুণ দর্শকরা দলে দলে টিকিট কাটতে শুরু করলেন। ফলাফল? হলিউডের বড় বড় সিনেমাকে পেছনে ফেলে এটি এখন লাখ লাখ ডলার আয় করে বক্স অফিসে হাউসফুল!
 
তবে এই ধরণের ঘটনা কিন্তু এবারই প্রথম নয়। ইতিহাস বলছে, মানুষের এই মনস্তত্ত্ব বহু পুরনো। ১৯ শতকের শুরুতে ইংল্যান্ডে রবার্ট কোটস নামের এক অত্যন্ত ধনী কিন্তু জঘন্যতম অভিনেতা ছিলেন। তিনি ‘রোমিও’ সেজে মঞ্চে সংলাপ ভুলে যেতেন, দামি পোশাক নষ্ট হবে বলে মেঝেতে রুমাল বিছিয়ে তারপর মরার অভিনয় করতেন! দর্শকরা হাসতে হাসতে চিৎকার করে বলত “আরেকবার মরো!” আর তিনিও খুশি হয়ে বেঁচে উঠে আবার মরার অভিনয় করতেন।
সেই যুগেও মানুষ স্রেফ এই ‘বাজে অভিনয়’ উপভোগ করার জন্য থিয়েটার হল হাউসফুল করে ফেলত!
হাল আমলে আমাদের দেশের হিরো আলমের অভিনয়ের কথা না-ই বা বললাম।

Conversation

1 Comment

Join the Conversation

Your email address will not be published. Please keep the conversation thoughtful and relevant.